পাকিস্তান থেকে রাশিয়ার পথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল-জাজিরার।

টেলিগ্রামে বলা হয়েছে, ‘এই সফরের সময় রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ইরান-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

চলতি সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার পাকিস্তান সফর করেছেন আব্বাস আরাঘচি। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছান তিনি। পাকিস্তানের মাধ্যমে আগে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার ওপর তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব সঙ্গে নিয়ে আসেন তিনি।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের প্রতিনিধিদলের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরা। 

তেহরান ছাড়ার আগে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘আমার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা নেই। ইরানের পর্যবেক্ষণ পাকিস্তানকে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চলমান মধ্যস্থতা ও সদিচ্ছার অংশ হিসেবে আরাঘচি তাদের সাথে বৈঠক করবেন।’

এরপরও আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ জানায়, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি আরও বলেন, আলোচনা সফল হচ্ছে প্রমাণিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তাতে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি। বৈঠকে তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের আলোচনার শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে আপত্তিগুলো পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। 

এরপর মার্কিন প্রতিনিধিদল আসার আগেই ওমানের উদ্দেশে পাকিস্তান ত্যাগ করেন আরাঘচি। বৈঠকের সম্ভাবনা না দেখে মার্কিন প্রতিনিধিদলের পূর্বনির্ধারিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, অর্থহীন আলোচনা করতে ইসলামাবাদ যাবেন না তার প্রতিনিধিরা। তবে তেহরান চাইলে যেকোনো সময় সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার কথায়, দুই দেশের আলোচনা ফোনকলের মাধ্যমে হতে পারে।

এদিকে আরাঘচি মাসকাটে পৌঁছে ওমানি সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর মস্কোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে দ্বিতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত বিরতির জন্য তিনি রোববার (২৬ এপ্রিল) ইসলামাবাদে ফেরেন।

 

আবা/এসআর/২৬