ক্যালিফোর্নিয়ায় বিস্ফোরণের শঙ্কায় ঘর ছাড়লেন ৪০ হাজার মানুষ
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৬:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে একটি রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (২৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ শহরের একটি মহাকাশযান ও প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানার বড় সংরক্ষণ ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে। পরে সেখান থেকে বিপজ্জনক গ্যাস বের হতে শুরু করে। ট্যাংকটিতে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার গ্যালন মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের রাসায়নিক পদার্থ ছিল, যা প্লাস্টিক ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
গার্ডেন গ্রোভ অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান ক্রেইগ কোভি বলেন, ট্যাংকটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঝুঁকি বাড়তে থাকায় গার্ডেন গ্রোভ ছাড়াও সাইপ্রেস, স্ট্যানটন, আনাহাইম, বুয়েনা পার্ক ও ওয়েস্টমিনস্টার শহরের কিছু অংশে জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে রাসায়নিক পদার্থ চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকর্মীরা বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করছেন, যাতে রাসায়নিক পদার্থ ড্রেন বা জলাশয়ে ছড়িয়ে না পড়ে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই গ্যাস শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, বমিভাব ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ট্যাংকের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও অন্যটি এখনও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হঠাৎ করে বাড়িঘর ছাড়তে হওয়ায় অনেক বাসিন্দা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
গার্ডেন গ্রোভ শহরটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ডিজনিল্যান্ডের দুটি বিনোদন পার্কের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। শহরটি বৃহৎ ভিয়েতনামি জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচিত।
কারখানার কাছেই বসবাসকারী ড্যানি ফাম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার সহবাসী দরজায় ধাক্কা দিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ার কথা বলেন। আগের রাতে একটি ভিয়েতনামি খাবারের দোকানে কাজ করায় তিনি আগে বিষয়টি জানতে পারেননি।
ড্যানি ফাম বলেন, ঘটনাটি তার জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তিনি কখনো ভাবেননি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। পরে তিনি শুধু মানিব্যাগ ও পাসপোর্ট নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন এবং পাশের শহরে বন্ধুর একটি খাবারের দোকানে আশ্রয় নেন।
