টানা তৃতীয় বছরের মতো ঈদের আনন্দ নেই গাজায়

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ২৩:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজার মানুষের জন্য ঈদ আনন্দ এখন কেবলই এক স্মৃতি। টানা তৃতীয় বছরের মতো কোরবানি ও ঈদের আনন্দ ছাড়াই সময় পার করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে। ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, কঠোর অবরোধ এবং তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে এই বিপর্যস্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ফলে গাজার গবাদি পশু খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাপক পশু সংকট ও তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে উপত্যকাটির অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই এবার ঈদে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে ইসরায়েলি অবরোধ ও কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক খাদ্য সংকটে ভুগছে গাজাবাসী। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) গাজায় তাদের খাদ্যসহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ (জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় গাজাবাসীর খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এর মধ্যে গবাদি পশু খাতের ধ্বংস বিপর্যয় ডেকে এনেছে খামারি, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জীবিকায়ও। সংবাদ মাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের খবর অনুযায়ী, অনেক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মাংস মুখে দেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজায় বর্তমানে কোনো জীবন্ত পশু ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে ৪০ থেকে ৬০ হাজার গবাদি পশু আনা হতো, সেখানে এখন গাজার বাজারগুলো সম্পূর্ণ পশুশূন্য। মিডলইস্ট আই বলছে, ঈদে কোরবানি করার যে আনন্দ, পশু সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে গাজাবাসীর জীবন থেকে সেটি বিলীন হয়ে গেছে। তার ওপর নতুন করে খাদ্য সংকট বেড়ে যাওয়ায় আরও মলিন হয়েছে গাজাবাসীর ঈদ আনন্দ।

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটির গবাদি পশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও (এফএও) জানিয়েছে, চলমান সংকটে গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল এরই মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

আবা/এসআর/২৬