ইরানের হুঁশিয়ারিতে লেবাননে হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের হুঁশিয়ারির পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত থেকে ইসরায়েল সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ইরান সতর্ক করেছিল যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নতুন করে হামলা চালানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সোমবার (১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
ট্রাম্পের দাবি, উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি ও হামলা বন্ধ করতে পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। তবে এর আগে ইরান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিল, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ বর্তমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে।
লেবানন দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, এই মার্কিন প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং তার বদলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ রাখা হবে, যা পরবর্তীতে পুরো লেবানন জুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সৈন্যদের ওপর তিনটি হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন থেকে ছোঁড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির কথা স্বীকার করলেও হিজবুল্লাহকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর বা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নতুন করে হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে তাদের পূর্বপরিকল্পিত অভিযান সাময়িকভাবে চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন। এতে লেবাননে আরেক দফা বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়েছে। যেখানে এরই মধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
আবা/এসআর/২৬
