ইরানের ভয়াবহ হামলায় ৮ মার্কিন সামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৪:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ঐ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি ‘চূড়ান্ত জবাব’ বলে বর্ণনা করেছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে রোাববার (স্থানীয় সময়) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এই অভিযান পরিচালনা করে। এতে আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও রয়েছে।
বাহিনীটি জানায়, এই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে ঐ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শত্রুপক্ষ ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে- আগ্রাসী শত্রু, যার স্বভাবই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং চুক্তি লঙ্ঘন করা আজ ভোরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে হামলা চালায়। তারা দাবি করে, এটি হরমুজ প্রণালিতে অনধিকার প্রবেশকারী একটি জাহাজের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর পদক্ষেপের জবাব দিয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত।
তারা আরও জানিয়েছে, ‘এখন থেকে যেসব জাহাজ নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আগ্রাসন চালালে—এমনকি গত রাত ও আজ রাতের মতো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলেও—তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী। শত্রুর বোঝা উচিত যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা ইসলামাবাদ সমঝোতার প্রথম ধারা ভঙ্গ করার শামিল এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।
এই বিবৃতিটি এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
