জব্দকৃত সম্পদ ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৮:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে ইরানি জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও 'বিশাল বিজয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সোমবার কোম সফরকালে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি ঘোষণা করেন, এই চুক্তির অধীনে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কাতারে জব্দ থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি জানান, এই অর্থ কাতারে আটকে থাকা মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ এবং বাকি অর্থ ফেরতের জন্য ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই তহবিল মুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সম্মত হওয়া কাঠামোরই অংশ ছিল।
যুদ্ধ ও বৈরী পরিস্থিতির মুখে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব দৃঢ়তার প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, কমান্ডার, অভিজাত ব্যক্তি এবং স্কুলছাত্রদের নির্মম হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার রাষ্ট্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে অস্থিতিশীল করতে এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির পতন ঘটাতে তাদের সমস্ত সক্ষমতা ব্যবহার করেছিল, কিন্তু জনগণের অদম্য শক্তি ও ঐশ্বরিক সমর্থনে তাদের সেই হিসাব সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি তাদের পূর্ববর্তী শহীদ নেতার ঘোষিত নীতি এবং এই অবস্থান এখনো বলবৎ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের পরবর্তী সকল পদক্ষেপ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের ঘোষিত নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, তীব্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য করেছে, যদিও ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে চলেছে। চুক্তি-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতিমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু করেছে এবং জনগণের স্বস্তির জন্য খাদ্য ভর্তুকির পরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে।
