খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিয়ে চমক দেখালেন আহমাদিনেজাদ

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তার ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল 'দৌলত-ই বাহার'-এ আহমাদিনেজাদের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক উত্থানে খামেনির বড় অবদান ছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে (২০০৫-২০০৯) খামেনির প্রত্যক্ষ ও অবিচল পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন তিনি। এই সমর্থনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০০৯ সালের 'বিতর্কিত' প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। খামেনি তখন জুমার খুতবাকে আহমাদিনেজাদ সরকারের পক্ষে জোরালো প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

তবে ২০১০ সালের মধ্যেই আহমাদিনেজাদ এবং সর্বোচ্চ নেতার মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। তৎকালীন গোয়েন্দা মন্ত্রী হেইদার মোসলেহিকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

আহমাদিনেজাদ মোসলেহিকে পদত্যাগে বাধ্য করলে খামেনি অবিলম্বে পাল্টা ডিক্রি জারি করে সেই গোয়েন্দা প্রধানকে পুনর্বহাল করেন। সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন 'অবাধ্যতা' প্রদর্শন করে আহমাদিনেজাদ টানা ১১ দিনের জন্য কর্মবিরতি পালন করেন। নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির করে দেন তিনি।

এমন আচরণের কারণে ইরানের শাসনকাঠামোর উচ্চপর্যায়ে থাকা ব্যক্তিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই দূরত্ব প্রাতিষ্ঠানিক বর্জনে রূপ নেয়। খামেনির নিয়ন্ত্রণে থাকা গার্ডিয়ান কাউন্সিল পরবর্তীতে ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আহমাদিনেজাদকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়নি।

তাই প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শোকযাত্রায় আহমাদিনেজাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেকেই তার এই উপস্থিতিকে ইরানের রাজনীতিতে নীরব পালাবদলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।