বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশের বেশি কমেছে।

এর আগে, গত বুধবার (৭ জুলাই) এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর স্পট স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময় আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩ দশমিক ৫০ ডলারে।

এদিকে মার্কিন ডলারের মূল্য ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড ১ শতাংশের বেশি বেড়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সহজে সুদের হার কমাতে পারবে না। এর ফলে বন্ডের ইল্ড বেড়েছে, যা স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর জন্য নেতিবাচক। কারণ এসব ধাতু থেকে কোনো ইল্ড পাওয়া যায় না।

এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের শেষের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে হরমুজ প্রণালীর বাইরেও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত কোনো সুদ না দেয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী নীতি নির্ধারণী বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বুধবার এই সম্ভাবনা ছিল ৬৮ শতাংশ।

 

আবা/এসআর/২৬