শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৭
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশের মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, দেশটির পাহাড়ি চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাতের পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
গত বছরের নভেম্বরেও ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহে বিধ্বস্ত হওয়ার পর অঞ্চলটি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বন্যায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু টিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাসদস্যরা পানিতে ডুবে থাকা সড়ক পেরিয়ে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।
শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ডে অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায়ই ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে একই চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময়ও দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
সেই ঘটনার মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে একের পর এক চরম আবহাওয়ার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলার স্কুলগুলো কবে খুলবে তা কর্তৃপক্ষ এখনও জানায়নি। কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপরই এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
আবা/এসআর/২৬
