কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২২৪, নিখোঁজ ২৭০০
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এছাড়াও প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় আঘাত হানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি কেবল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরবর্তী ভেনিজুয়েলাতেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।
মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদার রাজধানী পেরেইরা শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আশপাশের শহরগুলো এবং ভালে দেল কাউকা অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারগুলোসহ প্রায় ১৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরেইরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরটিতে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহরের কর্মকর্তারা সেখানে ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ আরও নিশ্চিত করেছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ প্রদেশ চোকোতে আরও ১৩ জন মারা গেছেন। এছাড়াও কালদাস অঞ্চলে দুজন এবং আন্তিওকিয়া অঞ্চলে ৭৩ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে সোমবার রাত পর্যন্ত স্থানীয় নাগরিকদের পরিচালিত ওয়েবসাইটগুলোতে ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল। যদিও এই সংখ্যাটি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনুসন্ধানকারী দলগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, সোমবারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা নবনির্বাচিত কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে। গত শুক্রবারই দায়িত্বগ্রহণ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এসপ্রিয়েলা।
