বাংলাদেশ থেকে আসা 'হিন্দু শরণার্থীরা' দ্রুত নাগরিকত্বের সনদ পাবে: শুভেন্দু

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ অনুযায়ী প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে যাওয়া ব্যক্তিদের দেশটির নাগরিকত্ব দিতে রাজ্যে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার জনকে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেছেন, যারা এখনো সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি তারাও তা করতে পারবেন। ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা 'হিন্দু শরণার্থীদের' দ্রুত নাগরিকত্বের সনদ দিতে আবেদন প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শেষ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে কথা বলেন।

ভারতের পার্লামেন্টে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সিএএ আইনটি পাস হয়। পরে দেমটির কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশজুড়ে তা কার্যকর করে। সিএএ এর উদ্দেশ্য, ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে 'ধর্মীয় নিপীড়নের' শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া।

২০২৬ সালের অগাস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে সিএএর অধীনে শরণার্থীদের আবেদন শুনানি ও নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়েছে।

মঙ্গলবার নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, "সিএএর অধীনে নাগরিকত্ব সম্পর্কিত শুনানিগুলো জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন এবং দ্রুত সনদ জারি করা হবে। এর মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারী নাগরিকত্ব সনদ পেয়েছেন। আরো ২ লাখ সাত হাজার আবেদন এখনো বিচারাধীন।'

"ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদেরও দ্রুত আমরা নাগরিকত্ব সনদ দেব।"

দীর্ঘদিন ধরে সিএএ সনদের অপেক্ষায় থাকা মতুয়া সম্প্রদায় এবং অন্যান্য হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "তারা আমার কাছ থেকেই এই সনদ পাবেন। ভারত সরকার আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।"

এর আগে গত ১ অগাস্ট শুভেন্দু বলেছিলেন, রাজ্যে সিএএর অধীনে থাকা নাগরিকত্বের সমস্ত মুলতবি আবেদন আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।