'বসনিয়ার কসাই' খ্যাত যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

বসনিয়ার সাবেক সার্ব সামরিক প্রধান রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য 'বসনিয়ার কসাই' নামে পরিচিত ম্লাদিচ বৃহস্পতিবার মারা যান। সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ম্লাদিচ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্রেব্রেনিৎসায় গণহত্যার নেতৃত্ব দেয়ার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে তিনি দ্য হেগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।

অসুস্থতার কারণে ম্লাদিচকে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়েছিল তার পরিবার ও সার্বিয়ার কর্মকর্তারা। তবে দ্য হেগের ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়ার যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ওই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেয়া প্রায় ৮ হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

সে সময়ের ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে শিশুদের মিষ্টি দিতে দেখা যায়। পরে নারী ও শিশুদের বাসে করে সরিয়ে দেয়া হয়। পুরুষদের নিয়ে যাওয়া হয় বনে। সেখানে তাঁদের হত্যা করা হয়। মরদেহগুলো গণকবরে ফেলা হয়। হত্যার প্রমাণ লুকাতে অনেক মরদেহ পরে তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়। নিহতদের মধ্যে যারা পালিয়ে বেঁচেছিলেন, তারা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা দেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচকে অভিযুক্ত করে। পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও আরও ১৬ বছর তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন। ২০০০ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোশেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ম্লাদিচের ওপর চাপ বাড়ে। ২০১১ সালের মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দ্য হেগে নেয়া হয়।

বিচারের সময় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালতকে তিনি পশ্চিমা শক্তির 'সন্তান' বলে আখ্যা দেন এবং নিজেকে ন্যাটোর 'লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০১৭ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে। স্রেব্রেনিৎসার পাশাপাশি মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত বৃহত্তর সার্বিয়া গঠনের লক্ষ্যে জাতিগত নির্মূল অভিযান পরিচালনার দায়েও ম্লাদিচকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জায়েদ রাদ আল-হুসেইন ম্লাদিচকে 'অশুভের প্রতিমূর্তি' হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে অনেক সার্বের কাছে তিনি এখনো বীর হিসেবে বিবেচিত।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা তার গুরুতর অসুস্থতার কথা তুলে ধরে মানবিক কারণে মুক্তির আবেদন করেন। তবে আদালত তাকে মুক্তি দেয়নি।

ম্লাদিচের জন্মতারিখ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তিনি দাবি করতেন, তার জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে ট্রাইব্যুনালের নথিতে তার জন্মসাল ১৯৪২ উল্লেখ করা হয়েছিল।