নেপালের বন্যায় নিহত ৯০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ | অনলাইন সংস্করণ

নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় নিহত বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে নিখোঁজও। এতদিন তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ বলা হলেও, নতুন করে সংখ্যাটি ৪ হাজার ২৪৭ বলেছে নেপোলের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) সংস্থাটি জানায়, ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ, যাদের অর্ধেকই বিদেশি। খবর সিএনএন'র।

চীনের গিরং বন্দর সীমান্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পানির প্রবল তোড়ে বহুতল ভবনগুলো সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। কোনো অবকাঠামোর চিহ্ন পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। তিব্বতের শিগাৎসে অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মিলছে না।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রিশূলি নদীর অববাহিকায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধার করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া ২৭টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় ৯০০ কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রিশূলি-৩এ এবং ৩বি প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশের মতো গর্ত তৈরি করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলি-৩এ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে প্রায় ১০০ শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হলেও ভেতর থেকে এখনো কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে চীন-নেপাল উভয় সীমান্তেই নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার মারাত্মক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জিরং বন্দর এলাকার আশপাশে আটটি স্থানকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ কেন্দ্র' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ড্রোন পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত টহল শুরু হয়েছে।