বিকল্প পথে তেল পাঠাবে সৌদি আরব, কমলো দাম

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ওমানের উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এ খবরে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ–সংকট আরও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৪০ ডলার। এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি তেলের বিকল্প সরবরাহ
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নতুন প্রস্তাবে সেটি কিছুটা কমেছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরব তেল রপ্তানি করতে পারছে---এমন খবর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম তিন ডলারের বেশি বেড়েছিল।

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জাহাজ চলাচল–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল। ইউরোপের কিছু ক্রেতার জন্য তেলের চালানও বাতিল করেছিল রিয়াদ। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালি ছিল বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক জাহাজ চলাচলের তথ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল ছিল মাত্র চারটি। আগেরদিন এই সংখ্যা ছিল সাতটি। গত ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

যুক্তরাষ্ট্রের মজুতও প্রভাব ফেলছে
তেলের দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।

তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রত্যাশার তুলনায় মজুত কমেছে অনেক কম।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত বেড়েছে। ডিজেলের মজুত বৃদ্ধিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে।

বিশ্লেষক জন কিলডাফের মতে, পরিশোধিত জ্বালানির মজুত স্থিতিশীল থাকা বা বাড়তে থাকায় তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো তেলের বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে আছে।

সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান–সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হুথিরা ইয়ানবু বন্দরেও নতুন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

সিটি গ্রুপের মতে, আগামী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামেও এর প্রভাব থাকবে।

ব্যাংকটি মনে করছে, আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সহায়তায় ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যেতে পারে।