যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি পরও রুশ তেল কিনবে ভারত
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০২ | অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে কয়েকটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করেই মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে নতুন মার্কিন শুল্কের কারণে দুই দেশের সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিল পাস করেছে।
প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত ও চীনের মতো বড় রুশ তেল ক্রেতা দেশগুলোই এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে।
ওয়াশিংটনের যুক্তি, রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানো গেলে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। আমরা বরাবর সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি এ শুল্ক কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাাশি বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারেও গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মার্কিন শুল্কের হুমকি ভারতের তেল শোধনাগারগুলোর ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। ভারতীয় কিছু শোধনাগার ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য রুশ তেলসহ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুশ তেল আমদানি কমাতে হলে ভারতকে অন্য উৎস থেকে তেল কিনতে হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
