তিনদিনের সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন এবং সফরের জন্য নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে অবস্থান করবেন। ২০১৫ সালের পর প্রথম বারের মত মার্কিন মূলকে পা রাখবেন শি; কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। 

আসন্ন এই সফরের মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক সফর সম্পন্ন হবে বলে সংবাদ প্রকাশ করছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বেইজিং ও ওয়াশিংটন কীভাবে তাদের সম্পর্ক পরিচালনা করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করবে—তা ক্রমেই দুই দেশ ও গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গত মে মাসে বেইজিং সফরে এসেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার সময় শি জিনপিং দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

প্রশ্ন তিনটি হচ্ছে-

ক) চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডিডিসের ফাঁদ (Thucydides Trap) অতিক্রম করে বড় দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে?

খ)আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বের জন্য আরও বেশি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারি?

গ)আমরা কি দুই দেশের জনগণের কল্যাণ এবং মানবতার ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি?

বহু বছরের অস্থিরতার পটভূমিতে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বাণিজ্য বিরোধ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি খাতে বিধিনিষেধ—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে কীভাবে সঠিকভাবে সম্পর্ক বজায় রাখা যায়, তা খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপর শি বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।

বেইজিং সম্মেলন সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। শি ও ট্রাম্প আগামী তিন বছর এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছেন।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পরিচালক দা ওয়েই বলেন, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে—সে বিষয়ে এমন একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা উভয় পক্ষের নেতারাই ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে ফোনালাপে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শি বিভিন্ন উপায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুখোমুখি বৈঠক ও ফোনালাপ; কখনো কখনো এসব যোগাযোগ হয়েছে অপেক্ষাকৃত অনানুষ্ঠানিক পরিবেশেও।

মে মাসের সফরের সময় শি ট্রাম্পকে মধ্য বেইজিংয়ে অবস্থিত চীনের নেতৃত্বের কমপ্লেক্স ঝংনানহাইয়ে ব্যক্তিগত বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানান। খুব কমসংখ্যক বিদেশি নেতাকেই এমন আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে।

শি ও ট্রাম্প সেখানে বাগানে হাঁটাহাঁটি করেন। তারা গল্প করেন এবং মাঝে মাঝে থেমে বাগানের উঁচু প্রাচীন গাছ ও পূর্ণ প্রস্ফুটিত চীনা গোলাপের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

পরে চা পান করতে করতে দুই নেতা যখন আলোচনায় বসেন, তখন শি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান, তেমনি আমি চীনা জনগণকে জাতীয় পুনর্জাগরণের পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।