দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি (অ্যাগ্রিমেন্ট) দিয়েছে ভারত সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে বরাতে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পরবর্তী পররাষ্ট্রসচিব হতে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচনে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পদ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ নিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছিল।

গত সপ্তাহে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানায়, ঢাকার পক্ষ থেকে আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে ‘অ্যাগ্রেমা’ বা আনুষ্ঠানিক সম্মতি চাওয়া হলেও এক মাসেরও বেশি সময় পর্যন্ত দিল্লির অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ ক্যারিয়ার কূটনীতিক। তিনি ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২০২৩-২০২৪ সালে তিনি অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার আগে ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আসাদ আলম সিয়াম। পাশাপাশি তিনি চিফ অব প্রোটোকল, ইউরোপ ও ইইউ উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের কার্যালয়ে পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর পর, ঢাকাও তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনসহ নানা ইস্যুতে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।  

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির হাইকমিশনারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। ফলে নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।