হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি মিলিশিয়ার হামলার মুখে লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সৌদিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে দেশটি। একইসঙ্গে সংঘাতে জড়ানো নয়, বরং স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য বলেও জানিয়েছে প্যারিস।

সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদিতে সেনা পাঠানোর এই ঘোষণা দেন। ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স ‘সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ পাঠাবে।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটি সুরক্ষার জন্য’ এসব ব্যবস্থা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আরও সামরিক সহায়তা দেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ফরাসি এই প্রেসিডেন্ট।

ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমানোর জন্য ফ্রান্স যে উদ্যোগগুলো নিচ্ছে, সৌদিতে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ। এই সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুতি মিলিশিয়া সৌদি আরবে বারবার হামলা চালিয়েছে। এতে লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সৌদির তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত আবারও যুদ্ধে রূপ নেয়ার পরই ফরাসি প্রেসিডেন্ট সেনা পাঠানোর এই প্রতিশ্রুতি দিলেন।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের সামরিক জোট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ইয়ানবু ও সৌদি আরবের আরেক শহর তায়েফ লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। একই দিন সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির বিভিন্ন শহরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং এই সংঘাতে ইরানের ঘনিষ্ঠ শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের লড়াই চলছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি সংঘাতের সূচনা হলে ইয়েমেনের লড়াইও সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে সৌদি আরব শত শত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হুতিরা।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোকা বন্দর দখল করে নেয় হুতিরা। এর ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সময় সৌদি আরব তেল পরিবহনের জন্য যে পথের ওপর নির্ভর করে আসছে, সেটিই এই পথ। লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সৌদির তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে।