মোজতবা খামেনির ওপর দুই দফায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ওপর দুই দফায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, তবে দুইবারই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি’—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। 

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের’ সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হায়দারি আলেকাসির এ দাবি করেন। 

তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় মোজতবাও মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। হামলার পর আহত মোজতবাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে তৃতীয় হাসপাতালটিতে মোজতবা খামেনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হায়দারি জানান, হামলায় পুরো হাসপাতালটি বিধ্বস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মোজতবা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করে একটি সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সাক্ষাতকারে শুধু মোজতবার বেঁচে যাওয়ার ঘটনাই নয়, কীভাবে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন সে বিষয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন হায়দারি।  

তিনি বলেন, গত ৮ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মোজতবা নিজেও জানতেন না যে তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

হায়দারি জানান, গত ৮ মার্চ কোম শহরে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর একটি গোপন বৈঠকে ব্যালট ভোটের মাধ্যমে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ৫৯টি ভোটের মধ্যে তিনি ৫০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। আটটি ভোট যায় আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির পক্ষে এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।

তিনি আরও দাবি করেছেন, তিনিই প্রথম মোজতবার নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার শারীরিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তাকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

হায়দারি বলেন, ‘শত্রুর অবস্থান বিবেচনায়, আমরা মোজতবা খামেনি ছাড়া ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতা ও সর্বোচ্চ পথপ্রদর্শক হিসেবে আর কাউকে মনোনীত করতে পারিনি’।

এদিকে হায়দারির এই দাবির পর মোজতবার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, এমনকি ক্যামেরার সামনেও আসেননি। 

বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি বেঁচে থাকলেও তার শরীরের বাম পাশ, হাত ও পা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকৃত হয়ে গেছে। 

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। সুরক্ষার স্বার্থে তিনি বর্তমানে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন এবং কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।