যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাপ কাতারের
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আনাদোলুর।
দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আনসারি বলেন, ‘অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। সাত মাসের সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়ে।
দীর্ঘ যুদ্ধের পর এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে দুই দফার চুক্তিই দ্রুত ভেস্তে যায়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালুসহ ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ কথা জানিয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি দাবি করে যে তারা কোনো সমঝোতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধানই উপস্থাপন করেছি।’
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান তেলবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল বা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের ইচ্ছা নিয়েও আলোচনা পুনরায় শুরু করবে।
জবাবে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।
পরদিন রোববার অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, এ সপ্তাহে মার্কিন আলোচকরা আরও আলোচনায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
আবা/এসআর/২৬
