মক্কার পর মদিনায় হামলার অভিযোগ, হুতিদের দায়ী করল সৌদি

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

সৌদি জোটের দাবি, গত মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এতে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

জোটটি জানিয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। তাদের দাবি, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবাকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির এক সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি সৌদি জোটের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন করে মদিনার হামলার অভিযোগ তুলেছে।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে হুতিদের ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছিল সৌদি আরব। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটি ধ্বংস করার দাবি করলেও মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল হুতিরা।

এদিকে সৌদি জোট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত ও জাজানের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী দাবি করেছে, এসব সংঘর্ষে হুতিদের কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে তাইজ প্রদেশেই ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।