মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। চলমান এই যুদ্ধ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এরই মধ্যে তলানিতে ঠেকেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রোববার সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পরই মাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনরি ইউনিট (এমইইউ) যাত্রা শুরু করে, যার সঙ্গে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই রণতরী ও নৌবহর মোতায়েনের ফলে সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্ত হতে পারে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করবে। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তার সামনে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। 

 ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং সামরিক ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ১২০টির বেশি বিমান মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, নতুন সেনা মোতায়েন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে বোমাবর্ষণ বাড়ানোকে সম্ভব বলে মনে করছেন। 

কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ওই অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানো ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি নতুন দরকষাকষির কৌশল হতে পারে। গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন চায় কোনো শর্তে রাজি হওয়ার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। 

 

আবা/এসআর/২৬