রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতির হামলা, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুজন নাগরিক রয়েছেন। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এ হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, কানাডা, মিসর, কাতার, পাকিস্তান, জর্ডান, ওমান, ফিলিস্তিন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নিন্দা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলবেন। হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি পর্যালোচনা করব। আমরা মাত্রই সাম্প্রতিক হামলার খবর পেয়েছি, তাই সিদ্ধান্ত নেব। খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হুতিদের হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের নিন্দনীয় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও লেখেন, ‘আমরা সৌদি আরবের রাজ্য ও জনগণের পাশে রয়েছি এবং নিহতদের ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের প্রাণঘাতী হুতি হামলায় গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
গুতেরেস বলেন, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাকে সংঘাতের গুরুতর অবনতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে, সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।’
কানাডা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাকে তিনি ‘ঘৃণ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্নি লেখেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, কানাডা এ ধরনের বেপরোয়া সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায়।
মিসর
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলায় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
কাতার
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হামলাটিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে দোহা। মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
কাতার সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের সুরক্ষায় নেওয়া সব বৈধ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটিকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বর্ণনা করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতি অবিচল সংহতি প্রকাশ করছে। হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ইসলামাবাদ।
জর্ডান
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনায় সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুতিদের হামলাকে ‘বর্বর আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ হামলা বিপজ্জনকভাবে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ওমান
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ওমানও। দেশটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রজ্ঞা ও সংযমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে উত্তেজনার পরিধি আরও বাড়াতে পারে, এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ওমানের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
ফিলিস্তিন
সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।
জাপান
সৌদি আরবে হুতিদের বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত জাপানের দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা সহ্য করা যায় না। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর এ অবস্থান জানাল জাপান।
