এবার আরামকোর তেল স্থাপনায় হুতিদের আঘাত

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে হুতিরা বিদ্রোহীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে এ হামলায় আগুন ধরে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএকে এ তথ্য জানান।

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সদর দফতরে হামলার আগে মঙ্গলবার দেশটির তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল হুতিরা। এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও উল্লেখ করেছিল ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্কবার্তার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

জোটের ওই নির্দেশের জবাবে সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সানায় যেকোনো হামলার জবাবে সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এদিকে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় সৌদি আরব সেগুলো প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে এসপিএ। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরামকোর এই স্থাপনায় হামলার আগে সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সানার আল-সাবাহ এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী।

এরপর টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরব সানায় হামলা চালালে রিয়াদে তার ‘দৃঢ় ও যন্ত্রণাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।

হুতিদের কর্মকর্তারা হামলার আশঙ্কা আগে থেকেই করেছিলেন বলে মনে হয়েছে। ইয়েমেন অয়েল কোম্পানি জানিয়েছিল, তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি রয়েছে। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত বা স্থানীয় বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাস ইসা বন্দরে আরও দুটি দফায় বিমান হামলা চালায়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোদেইদা প্রদেশের একটি তেল স্টেশন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, হুতিরা ওই স্থাপনা এবং এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ইয়াহিয়া সারি জানান, সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে হুতিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ চলছে।

 

 

আবা/এসআর/২৬