যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ
ভারতে ককরোচ পার্টির শীর্ষ ২ নেতা ৫ দিনের জেল হেফাজতে
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের দিল্লিতে অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোকর) পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে ঢুকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন তারা। এরপররই তাদের আটক করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তারা আগে দেয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জামিনের শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় অজিঙ্কা শিন্দের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তিন নেতাকে দিল্লির মন্দির মার্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। পরে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠানো হয় তাদের।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলেন।
দিল্লি পুলিশের সূত্রের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশের দাবি, একই ধরনের অপরাধে পুনরায় জড়িত হওয়ায় তারা আগে যে মুচলেকা দিয়েছিলেন, তার শর্তও ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর শিন্দে, দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হয়। এ সময় তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে এক্সে দেয়া পোস্টে জানিয়েছেন সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং।
এর আগে এক ঘটনায় ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন তারা। সেই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো ঘটনায় জড়াবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছিলেন। এবার তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ ও মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের পুনরায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
এর আগে এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং লিখেছিলেন, ‘আজ যন্তর মন্তরের ঘটনায় সংসদ মার্গ থানায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্দেকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ, সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।’
রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত তিন নেতাকে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদের সংসদ মার্গ থানায় নেয়া হয়।
এর আগে গত শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর রাঙ্কা ও দাস এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকায় সই করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সিজেপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও সিবিডি মাঠকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই আদেশে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেয়া হয়।
সিজেপি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নিলে জনসমাবেশের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।
