বিক্ষোভ ঠেকাতে মিলান শহরে সেনা মোতায়েন করছে ইতালি
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ লম্বার্ডির রাজধানী মিলানে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরটিতে ৫০০ সেনা মোতায়েন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনসা জানিয়েছে, গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও করের চাপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে একদল বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন দোকানের জানালা ভাঙচুর, দোকান ও সুপারমার্কেটে লুটপাট এবং রাস্তায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়।
আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় মিলানে ২৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে সহিংসতার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মিলানের বিলাসবহুল পণ্যের দোকানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা এবং মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সেনারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় মানুষের চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এ পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।
এদিকে সহিংস বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে ইতালির মন্ত্রিসভা। নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের সময় সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য শাস্তির বিধান, অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তবে নতুন আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
