জর্ডানে চার্চে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি, নিহত ৭

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জর্ডানের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশের একটি চার্চে শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে একদল বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল-মুশাইরফেহ এলাকার চার্চটিতে ঘটে যাওয়া এই হামলায় যুক্ত বন্দুকধারীদের ধরতে জর্ডানজুড়ে ব্যাপক চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকা প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাত থেকে নিরাপত্তা প্রাচীর ও গাছের আড়ালে লুকিয়ে অন্তত তিনজন বন্দুকধারী চার্চ লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়ছে। এরপর তারা দ্রুত চার্চের প্রবেশপথের দিকে ধাওয়া করে।

ঘটনাস্থলে থাকা খালেদ বুর্কান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শেষকৃত্যে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং হামলাকারীরা বেশ কয়েক মিনিট ধরে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে চার্চের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে।

ঘটনার পরপরই কারাক সফর করেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কারাকে এই সন্ত্রাসী হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। যারা মনে করে বুলেটের আঘাতে জর্ডানের জনগণকে বিভক্ত করা যাবে, আমাদের ঐক্যের সামনে তাদের সেই দুরাশা কোনোদিন সফল হবে না। হামলাকারীদের ‘লৌহহস্তে’ দমন করা হবে।’

জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মাইতাহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল ফারেহ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাটি চরমপন্থিদের দ্বারা সংঘটিত হলেও এতে কোনও আন্তর্জাতিক বা দেশীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘এটি অন্ধ চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী আদর্শের পরিণতি। কোনও অবস্থাতেই আমাদের সমাজকে এই পথ অনুসরণের সুযোগ দেওয়া হবে না।’ 

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিক এবং প্রার্থনালয়ে এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ এছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ একে একটি ‘বর্বর ও ঘৃণ্য আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

আবা/এসআর/২৬