ম্যাসেঞ্জারে তিনবার কবুল বললে কি বিয়ে হবে

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  ইসলাম ডেস্ক

আল্লাহতায়ালা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন। বিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। তিনি বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (ইবনে মাজাহ : ১৮৪৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (বোখারি : ৫০৬৬)।

বিয়ের মৌলিক কাজ হলো, বরের কাছে মেয়ের অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করার পর বর বা তার প্রতিনিধি এতে সম্মতি দেবে।

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত আছে। যেমন- এক. পরস্পর বিয়ে বৈধ হয়, এমন পাত্র-পাত্রী হওয়া। দুই. পাত্র-পাত্রীর সম্মতি থাকা। তিন. মেয়েকে বিয়ে করানোর জন্য অভিভাবক থাকা। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবক ছাড়াও তার বিয়ে হবে। চার. দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে। পাঁচ. বিয়ের জন্য মেয়েকে মোহর দেওয়া ফরজ।

ম্যাসেঞ্জারে বিয়ে বৈধ হবে না। প্রস্তাব ও গ্রহণের জন্য ম্যাসেঞ্জার উপযুক্ত জায়গা নয়। বরং প্রস্তাব, কবুল ও সাক্ষী একই মজলিসে থাকতে হবে। বর এবং কনে বা তাদের প্রতিনিধি একই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। ম্যাসেঞ্জারে যেহেতু এসব বিষয় পাওয়া যায় না, তাই ম্যাসেঞ্জারে বিয়ে হবে না।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ম্যাসেঞ্জারে তিন বার কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘সাক্ষী, একই বৈঠক ও মোহর ছাড়া শুধু ম্যাসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হবে না। তবে দুজন সাক্ষী ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দুষ্টমি করেও কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বলে, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করলাম’। মেয়ে যদি সম্মতি দেয়, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা তানযীম ফাতওয়া বোর্ডের সদস্য ও দারুল উলুম দত্তপাড়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল হুদা বলেন, ‘শুধু কবুল বলার মাধ্যমে বিয়ে হয় না। বিয়ে সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একই বৈঠকে একজন প্রস্তাব দিতে হবে এবং আরেকজনকে গ্রহণ করতে হবে। সেখানে মোহরও নির্ধারণ করতে হবে। তবে মেয়ের কাছে যদি ছেলেপক্ষের অভিভাবক এবং ছেলের কাছে মেয়েপক্ষের অভিভাবকসহ দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে কবুল বলা হয়, তাহলে বিয়ে হবে।’