আল্লাহর সুন্দর নাম ও গুণাবলির পরিচয়

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  শায়খ ড. খালেদ বিন সুলাইমান আল মুহান্না

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে উত্তম জীবন কামনাকারী হিসেবে, শান্তি অনুসন্ধানকারী হিসেবে ও সুখের সন্ধানীরূপে। আর এসব সে তখনই লাভ করতে পারে, যখন সে তার প্রতিপালকের বান্দা হয় এমন এক ইবাদতের মাধ্যমে, যা পূর্ণ ভালোবাসা, তাঁর প্রতি বিনয় ও তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্যকে একত্র করে। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ জিন ও মানুষের সৃষ্টির যে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছেন তা পূরণ হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে এজন্যে যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।’ (সুরা জারিয়াত : ৫৬)।

বান্দা তখনই প্রকৃত অর্থে বান্দা হতে পারে, যখন সে তার প্রতিপালককে চিনতে পারে। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক সম্পর্কে যত বেশি জানে, সে তত বেশি ইবাদতকারী হয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা রাসূলগণ প্রেরণ করেছেন ও তাদের উপর কিতাব নাজিল করেছেন, যাতে মানুষ তাদের প্রতিপালক ও মালিককে চিনতে পারে। আর এই পরিচয়ই হলো সব জ্ঞানের মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহকে চেনা ইসলামের ভিত্তি ও ঈমানের মূল স্তম্ভ। এই পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দরজা হলো, আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলী ও কর্মসমূহকে জানা। এই দরজাটি এমন, যা একজন মানুষকে তার প্রভুর ভালোবাসা, মহিমা ও তাঁর প্রতি বিনয় অর্জনের দিকে নিয়ে যায়। বান্দা যত বেশি তার প্রতিপালককে চিনবে, তত বেশি তাকে ভালোবাসবে। আর যারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তারা হলো যারা তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও মহান গুণাবলি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে। এ কারণেই রাসুলগণ আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাদের মধ্যে দুই খলিল- হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পোষণকারী।

আল্লাহকে জানার মাধ্যমে মানুষের অন্তর পূর্ণতা লাভ করে, পবিত্র হয়; আত্মা শান্তি পায় ও উন্নত হয়। আর তাঁকে জানার মাধ্যমেই বান্দা ইহসানের স্তরে পৌঁছে যায়, যেখানে সে তার প্রভুর ইবাদত করে যেন সে তাঁকে দেখছে। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সামনে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পবিত্র সত্তা সম্পর্কে কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াতে যা বলেছেন এবং তাঁর রাসুল (সা.) যা বর্ণনা করেছেন তাঁর নাম, গুণাবলি ও কর্ম সম্পর্কে। তাছাড়া তিনি তাঁর আসমান-জমিনে যা সৃষ্টি করেছেন, এগুলোতে যে মহৎ ও বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ স্থাপন করেছেন, সেগুলোর মাধ্যমেও তিনি নিজেকে পরিচিত করেছেন। একইভাবে তিনি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অসংখ্য নিয়ামতের মাধ্যমে নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন, যেগুলো প্রমাণ করে যে তাঁর রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, পরিপূর্ণ গুণাবলী ও এমন কর্ম, যা চরম রহমত, কল্যাণ, প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ। এজন্য তিনি প্রশংসার একমাত্র যোগ্য দুনিয়া ও আখিরাতে, আসমান ও জমিনে। তাঁর প্রশংসা এমনভাবে করা উচিত, যা তাঁর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই তিনিই সবচেয়ে বেশি স্মরণযোগ্য, সবচেয়ে বেশি প্রশংসাযোগ্য ও সবচেয়ে বেশি ইবাদতের যোগ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই; আর তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা রুম : ২৭)। তাঁর সত্তা, নাম ও গুণাবলিতে রয়েছে পরিপূর্ণতা। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে নিজের পরিচয় দিয়ে এবং তাওহিদে রবুবিয়াতের পথে দিকনির্দেশনা দিয়ে আরও বলেন, ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই, সুন্দর সুন্দর নাম তাঁরই।’ (সুরা তহা : ৮)। অর্থাৎ, এসব নাম সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। আল্লাহর নামসমূহই সর্বশ্রেষ্ঠ নাম; এগুলোর হৃদয় ও শ্রবণে গভীর প্রভাব রয়েছে, কারণ এগুলো প্রশংসা, মহিমা ও গৌরবের গুণাবলি নির্দেশ করে। প্রতিটি নামই এমন এক পূর্ণ গুণের দিক নির্দেশ করে, যেখানে কোনো ত্রুটি নেই। এজন্যই এগুলো ‘সুন্দরতম নাম’। আল্লাহ নিজেই এসব নামে নিজেকে নামকরণ করে বান্দাদের জন্য প্রকাশ করেছেন, যাতে তারা এগুলো জানতে পারে, এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং এসব নামের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ ও ইবাদত করতে পারে।

আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করে ও তাওহিদে উলুহিয়াতের পথে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর জন্যে আছে সুন্দর সুন্দর নাম। কাজেই তোমরা তাঁকে সেই সকল নামেই ডাকবে; যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করবে; তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে।’ (সুরা আরাফ : ১৮০)। প্রশংসা ও ইবাদতের দোয়া হিসেবে তাঁকে এসব নামে ডাকো; এসব নামে তাঁকে স্মরণ করো, তাঁর প্রশংসা করো। আর প্রার্থনার দোয়া হিসেবে তোমাদের প্রয়োজনগুলো পূরণের জন্য এসব নামের মাধ্যমে তাঁর কাছে চাও, তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অনেক, এর সঠিক সংখ্যা কেবল তিনিই জানেন। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি আপনার কাছে আপনার প্রত্যেক নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করি, যে নাম আপনি নিজে নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার কোনো বান্দাকে শিখিয়েছেন, অথবা গায়েবের জ্ঞানে নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন।’ তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এসব নামের কিছু অংশই জানিয়েছেন। আর যেসব ব্যক্তি এসব নামের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে, তাদের জন্য জান্নাতকে প্রতিদান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, একশো থেকে একটি কম; যে এগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বোখারি : ৭৩৯২)।

এই নিরানব্বইটি নামই আল্লাহর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, সবচেয়ে স্পষ্ট অর্থবহ ও সবচেয়ে সুপরিচিত নামসমূহ। আর এগুলো ‘গণনা করা’ বলতে বোঝায়, এর শব্দগুলো জানা, অর্থ বুঝা ও এসব অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করা; অর্থাৎ তাঁকে মহিমান্বিত করা, পবিত্র ঘোষণা করা, তাঁর আদেশ পালন করা ও এসব নামের মাধ্যমে তাঁর কাছে দোয়া করা। এই সুন্দর নামগুলোর মূল ভিত্তি পাঁচটি; যা কোরআনের প্রারম্ভিক সুরা ফাতিহাতে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তাআলার সব নামই এই পাঁচটির দিকে ফিরে যায়-

১. আল্লাহ। এটি মহিমান্বিত নাম, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নাম; যা সব সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলীর অর্থকে ধারণ করে। এর অর্থ হলো, সেই উপাস্য, যাকে ইবাদত করা হয়; যাঁর একচ্ছত্র উপাস্যত্ব রয়েছে সকল সৃষ্টির ওপর। সব সৃষ্টি তাঁকে ভালোবাসা, সম্মান ও বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করে। আল্লাহ কাউকে অনুমতি দেননি যেন তাঁর এই নামে কেউ নিজেকে নামকরণ করে, বা তাঁর ছাড়া অন্য কাউকে এই নামে ডাকা হয়। আল্লাহ এই নামকে ঈমানের সূচনা, ইসলামের স্তম্ভ, সত্য ও একনিষ্ঠতার বাণী বানিয়েছেন। এই নামের মাধ্যমেই ফরজ কাজ শুরু হয়, শপথ গঠিত হয়, শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া হয় ও সব কাজ তাঁর নাম দিয়ে শুরু ও শেষ করা হয়। তাঁর নাম বরকতময়, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

২. রব। যাঁর মধ্যে রুবুবিয়তের সব অর্থ বিদ্যমান, যার কারণে তিনি উপাস্য হওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ সব পরিপূর্ণ গুণ ও সব প্রশংসা তাঁর জন্য। সব সৃষ্টি তাঁর অধীন, তাঁর মহিমা ও মর্যাদার সামনে পরাভূত ও নত। তিনি মালিক, সর্বশক্তিমান ব্যবস্থাপক ও যিনি পূর্ণভাবে সবকিছু পরিচালনা করেন। তিনি তাঁর বান্দাদের বিভিন্ন নিয়ামত ও অনুগ্রহের মাধ্যমে লালন-পালন করেন। আর তাঁর প্রিয় ও নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর, আত্মা ও চরিত্রকে তিনি বিশেষভাবে পরিশুদ্ধ করেন।

৩-৪. রহমান, রহিম। তিনি এমন দয়ার অধিকারী, যার দয়া সমস্ত সৃষ্টিকে ঘিরে রেখেছে, তাদের রিজিক, জীবনযাপনের উপায় ও কল্যাণের ক্ষেত্রে। এই দয়ার মাধ্যমেই তিনি তাদের বিষয় পরিচালনা করেন ও তাদের উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেন। তাঁর রহমতের কারণেই তিনি রাসূলগণ পাঠিয়েছেন ও শরিয়ত নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিখেয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে।’ (সুরা রহমান : ১-৪)।

এই রহমান নামটি আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নামের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বল, তোমরা আল্লাহ নামে আহ্বান কর বা ‘রহমান’ নামে আহ্বান কর, তোমরা যে নামেই আহ্বান কর সকল সুন্দর নামই তো তাঁর।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১১০)। এই নামটি আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে তাঁর বান্দাদের জন্য তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেছেন। আর রহীম হলো সেই দয়া, যা বিশেষভাবে মুমিন ও পরহেজগারদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে বরাদ্দ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।’ (সুরা আহজাব : ৪৩)। এই দয়ার মাধ্যমে তিনি তাদেরকে তাঁর ইবাদতের পথে পরিচালিত করেন, তাদেরকে আনুগত্যের জন্য বেছে নেন। এই দয়ার মাধ্যমেই তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান যা মূলত তাঁর রহমত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারা আল্লাহর অনুগ্রহে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১০৭)। একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি জান্নাত আমার রহমত; আমি যার প্রতি ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে দয়া করব।’

৫. মালিক। বিচার দিবসের মালিক ও অধিপতি। সমস্ত রাজত্বের মালিক, পরাক্রমশালী শাসক। আসমান, জমিন ও যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক তিনি। দুনিয়া ও আখিরাতে পরিচালনা, আদেশ, নিষেধ ও প্রতিদানের ক্ষেত্রে তাঁরই পূর্ণ রাজত্ব। সৃষ্টির সবাই তাঁর বান্দা ও অধীন। তাঁর জন্য রয়েছে রাজত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বহু সুন্দর সুন্দর নাম। যেমন: আল মুহাইমিন, আল আজিজ, আল জব্বার, আল মুতাকাব্বির, আল আজিম, আল জালীল, আল কাবীর, আল খাফিদ, আর রাফি‘, আল মুইজ্জ, আল মুযিল, আল হাকাম, আল আদল, আল মুতাআলি।

মহান আল্লাহ তাঁর নাম ও গুণাবলিকে ভালোবাসেন, আর তিনি তাদেরও ভালোবাসেন যারা এসব নাম ভালোবাসে, এগুলো বেশি বেশি উচ্চারণ করে এগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে একটি অভিযানে নেতা বানিয়েছিলেন। সে তার সাথিদের নিয়ে নামাজে কুরআন তিলাওয়াত করত ও সব সময় সুরা ইখলাস দিয়ে শেষ করত। ফিরে এসে তারা বিষয়টি নবীজিকে জানায়। তিনি বলেন, ‘তাকে জিজ্ঞেস করো, কেন সে এমন করে?’ তারা জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ‘কারণ এতে রহমানের গুণ বর্ণনা আছে, আর আমি এটি পড়তে ভালোবাসি।’ তখন নবীজি বললেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহতায়ালাও তাকে ভালোবাসেন।’ (মুসলিম : ১৭৭৫)।

যে ব্যক্তি আল্লাহর সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলি জানার দিকে মনোযোগ দেয়, সে তার আনন্দ দ্রুত লাভ করে, তার হৃদয় পূর্ণ সুখ পায় ও আল্লাহর পথে চলার উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। তখন আল্লাহ ছাড়া তার কাছে আর কিছুই প্রিয় থাকে না, সে অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহী হয় না, শুধু যা তাকে আল্লাহর কাছে নিকটবর্তী করে তা ছাড়া।

একজন বান্দা এই জ্ঞান কুরআনের আয়াতসমূহে পায়, যে কিতাব কেউ গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাবে এমন এক প্রতিপালককে, যার মধ্যে সব পরিপূর্ণ গুণ ও মহিমা বিদ্যমান। এরপর সে এই জ্ঞানের ফল আস্বাদন করে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, ভয় ও বিনয় জন্মায় তার মধ্যে। তাঁর দয়া, অনুগ্রহ, কোমলতা ও দানের গুণাবলী মানুষের অন্তরে আশা জাগায়; ফলে বান্দা আমলে সক্রিয় হয়, ভালো ধারণা পোষণ করে ও আশাবাদী হয়। আর তাঁর ন্যায়বিচার, প্রতিশোধ, অসন্তোষ, রাগ ও শাস্তির গুণাবলি মানুষের অন্তরে ভয় সৃষ্টি করে; আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভয় থাকার প্রবণতা দূর করে খারাপ প্রবৃত্তিকে দমন করে। ফলে কামনা-বাসনা, রাগ, খেলাধুলা ও নিষিদ্ধ বিষয়ে লোভ কমে যায়। তাঁর আদেশ-নিষেধ, রাসূল প্রেরণ ও কিতাব নাযিল করার গুণাবলী মানুষকে আদেশ মানতে, নিষেধ থেকে বিরত থাকতে, সত্যের প্রতি আহ্বান করতে ও সংবাদকে সত্য বলে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি, তত্ত্বাবধান, সর্বব্যাপী জ্ঞান ও সাক্ষী থাকার গুণাবলী মানুষকে আন্তরিকতা, লজ্জা ও সতর্কতা শিক্ষা দেয়। তাঁর রিজিক দান, যথেষ্টতা, সহায়তা, সংরক্ষণ, সাহায্য ও অভিভাবকত্বের গুণাবলি মানুষকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ভরসা, নির্ভরতা ও উত্তম ধারণা রাখতে শেখায়। তাঁর মহিমা ও বড়ত্বের গুণাবলি মানুষকে তাঁর সামনে বিনয়ী করে, তাঁর মহিমার সামনে নিজেকে ছোট মনে করতে শেখায় এবং হৃদয় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নম্র করে তোলে।

হে আল্লাহ! আমরা তোমার সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলির মাধ্যমে তোমার পরিচয়ের আনন্দ ও তোমার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রশান্তি প্রার্থনা করি। আর তোমার অনুগ্রহ ও দয়ার মাধ্যমে তোমার সম্মানিত মুখমণ্ডল দর্শনের সুখ ও তোমার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা কামনা করি। হে মুসলমানগণ! এই বরকতময় দিনে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে যে সর্বোত্তম আমল দ্বারা নিকটবর্তী হতে পারো, তা হলো, আমাদের নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করা; যিনি মুত্তাকিদের নেতা ও সকল মানুষের সর্দার।