আইইউবিএটির উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় শতাধিক দলের অংশগ্রহণ
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র (আইআইইসি) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা–২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টিরও বেশি দল এবং ৩৭০-এরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
১ ও ২ আগস্ট আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আইইউবিএটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, গবেষণালব্ধ ধারণা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রজেক্ট প্রদর্শনী, গবেষণা পোস্টার উপস্থাপন, লাইন অনুসরণকারী রোবট, সকার রোবট, রেসিং রোবট, ট্রাস ডিজাইন প্রতিযোগিতা, ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো নির্মাণ (সিসমিক), সফটওয়্যার উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা (হ্যাকাথন), ব্যবসায়িক কেস বিশ্লেষণ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন—এই ১০টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রজেক্ট প্রদর্শনী বিভাগে এগ্রি স্পার্ক, গবেষণা পোস্টার উপস্থাপনায় সোলার সোলস, ট্রাস ডিজাইন প্রতিযোগিতায় জেন সিভিল, ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো নির্মাণে লিংক স্পেস, সকার রোবট বিভাগে এএইচ ফাইটার, লাইন অনুসরণকারী রোবট বিভাগে নেক্সট জেন রোবটিকস, রেসিং রোবট প্রতিযোগিতায় এএইচ রোভার, ব্যবসায়িক কেস বিশ্লেষণে অ্যাসেট ক্লাস, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনায় সোলার সোল এবং সফটওয়্যার উদ্ভাবন (হ্যাকাথন) প্রতিযোগিতায় ওয়েব জারএক্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্রের বার্ষিক মিলনমেলা, প্রাক্তন সদস্যদের পুনর্মিলনী এবং বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদপত্র, স্মারক উপহার ও মধ্যাহ্নভোজ প্রদান করা হয়। এছাড়া বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সর্বমোট ৭৫ হাজার টাকা সমমূল্যের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। একই সঙ্গে বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে তরুণদের উৎসাহিত করা এবং শিল্পক্ষেত্র ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আইইউবিএটির উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র (আইআইইসি)-এর পরিচালক ড. নাঈম হোসেন জানান, আইইউবিএটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান এবং উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও শিল্প-একাডেমিয়া সমন্বিত কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে।
পাশাপাশি, আইআইইসির উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া, প্রকল্প ও স্টার্টআপ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, পরামর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই বৃদ্ধি করে না, বরং নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এই উদ্ভাবন প্রতিযোগিতার ধারণা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস।
আইইউবিএটি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
