নিয়মিত ব্রাশ করলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে যেসব কারণে

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রতিদিন কথা বলা বা সামাজিক মেলামেশার সময় মুখের দুর্গন্ধ বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই মনে করেন, ঠিকমতো ব্রাশ না করা, মাড়ির সমস্যা কিংবা মুখে খাবারের কণা জমে থাকার কারণেই শুধু এমন হয়। তবে নিয়মিত ব্রাশ করার পরও অনেকের মুখে অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

পেটের সমস্যায় যেভাবে মুখে দুর্গন্ধ হয়

মুখ ও পাকস্থলী একই পরিপাকনালির অংশ। তাই হজমের গোলযোগ, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা কিছু পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় মুখে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি হতে পারে। তবে মুখের দুর্গন্ধের সবচেয়ে সাধারণ কারণ সাধারণত মুখ, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা। তাই দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকলে শুধু পেটের সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড ও খাবারের কিছু অংশ খাদ্যনালির দিকে উঠে আসতে পারে। এতে টক ঢেকুর, বুক জ্বালা, মুখে টক স্বাদ এবং কখনো দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে এই সমস্যা বাড়তে পারে।

হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য

হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পেট ফাঁপা, ঢেকুর ও গ্যাসের মতো অস্বস্তি হতে পারে। এসব সমস্যার সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধও কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে।কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে মুখের দুর্গন্ধের পরোক্ষ কিছু যোগসূত্র রয়েছে।

হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি সংক্রমণের কারণে

পাকস্থলীতে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ গ্যাস্ট্রাইটিস ও পাকস্থলীর আলসারের কারণ হতে পারে। কিছু গবেষণায় এই সংক্রমণের সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে দুর্গন্ধের কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।

আইবিএস বা গ্যাসের সমস্যা

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের কারণে পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিক এনজাইমের অভাব ঘটে। ফলে খাবার প্রাকৃতিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় এবং পচা টক ঢেকুরের সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে যা করবেন

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

মুখ শুকিয়ে গেলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন। নিয়মিত পানি খেলে মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পায়।

আঁশযুক্ত খাবার খান

শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফাইবার খাওয়া ঠিক নয়। ধীরে ধীরে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।

দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন

মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম সাধারণ কারণ মুখের ভেতরের সমস্যা। তাই দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি জিহ্বাও পরিষ্কার করুন। দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকলে তা পরিষ্কার করাও জরুরি। নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানো ভালো।

 

আবা/এসআর/২৬