আজ ১৭ অক্টোবর ‘প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন’

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে বললেই তো আর সব শেষ হয়ে যায় না। কিছু অনুভূতির তীব্রতা আপনার শরীর ও মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। তাই সম্পর্কের সামাজিক বা আইনি সমাপ্তি ঘটলেও মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ আর অপমানের পাহাড় সহজে গলে না। মনের গভীরে প্রাক্তনের সঙ্গে এক নীরব যুদ্ধ চলতেই থাকে। আর এই রণে ভঙ্গ দিয়ে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যেই আজকের এই দিন-

আজ ১৭ অক্টোবর, প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিবস। ২০১৮ সালে মার্ক অ্যান্থনি নামের এক ব্যক্তি এই দিবস পালন শুরু করেন। বিচিত্র এই দিনটি মূলত অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে নিজেকে মানসিক বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে পালিত হয়ে আসছে।

ক্ষমা করা মানে অপর পক্ষকে তার অন্যায়ের জন্য ছাড় দেওয়া নয়। বরং নিজেকে মানসিক কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া। ক্ষমা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মনের ভেতরে দীর্ঘ মেয়াদে রাগ বা প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকলে শরীরে ‘কর্টিসল’  বা স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এতে মানসিক অবসাদ তৈরি হয়। তাই নিজের মানসিক শান্তির জন্য হলেও প্রাক্তনকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।

তবে ক্ষমা করার জন্য প্রাক্তনকে ফোন বা মেসেজ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার মন থেকে প্রাক্তন সম্পর্কিত খারাপ স্মৃতিগুলোকেও চিরতরে মুছে দিন। নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করে দিন।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনার অতীত সম্পর্কটি যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের স্মৃতিতে ভরা থাকে, তবে সমাজ বা দিবসের চাপে পড়ে তাকে ক্ষমা করার জন্য নিজেকে জোর করবেন না।

এক্ষেত্রে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে সেই অতীতকে পুরোপুরি ভুলে যাওয়াই শ্রেয়। প্রাক্তনের কাছ থেকে কোনো ধরণের অনুশোচনা বা ফেরার আশাও রাখবেন না। অতীতকে অতীতেই রেখে আসুন। সকল জঞ্জাল থেকে মুক্ত করে দিন নিজেকে।

নিজেকে ক্ষমা করা: বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের চেয়ে নিজের ওপর মানুষের রাগ বা ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি থাকে। সবকিছুর জন্য মানুষ নিজেকে দোষারোপ করে এই বলে—‘কেন আমি এত বোকা ছিলাম?’

তাই, প্রাক্তনকে মাফ করার আগে নিজেকে এই অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

স্মৃতির ফাঁদ: বিচ্ছেদের কিছুদিন পর মস্তিষ্ক আমাদের অনুভূতি নিয়ে খেলা করে। মস্তিস্ক তখন প্রাক্তনের সব খারাপ আচরণগুলো ভুলিয়ে আমাদের শুধু ভালো স্মৃতিগুলো মনে করাতে থাকে। একে রোজ-টিন্টেড নস্টালজিয়া বলে। এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে, ক্ষমা মানে অতীতের ভালো মূহূর্তগুলো মনে করে আবেগের বশে একই ফাঁদে বারবার পা দেওয়া নয়। বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই প্রাক্তনকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে।

স্টকিং বন্ধ করা: মুখে মুখে প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়ার দাবি করলেও অনেকের সোশাল মিডিয়ায় গোপনে প্রাক্তনকে স্টক করার অভ্যাস রয়েছে। এই ক্ষতিকর ‘ডিজিটাল লুপ’ থেকে নিজেকে পুরোপুরি বের করে আনতে হবে।

ক্ষমা ও সীমানা: ক্ষমা করা মানে আপনার জীবনে তাদের দ্বিতীয়বার প্রবেশাধিকার দেওয়া না। কাউকে মন থেকে ক্ষমা করার পরও তার জন্য আপনার জীবনের দরজা চিরতরে বন্ধ রাখতে পারেন। ক্ষমা করা এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর ব্যক্তিগত সীমানা বজায় রাখা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।