বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক অ্যাডভেঞ্চার বাইক আনল চেরি

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

চার চাকার গাড়ির বাজারে পরিচিত চীনের অটোমোবাইল নির্মাতা চেরি এবার বৈদ্যুতিক দুই চাকার গাড়ির দুনিয়ায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি সম্প্রতি একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দুইটি নতুন নিউ এনার্জি ভেহিকল মডেল সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গ্রো সিথ্রি’ নামে একটি রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল এবং একটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক অ্যাডভেঞ্চার স্কুটার।

সংস্থার দাবি, গ্রো সিথ্রি বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড ইন্টেলিজেন্ট ক্রুজার। অন্যদিকে, নতুন অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারটি একবার চার্জে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ কিলোমিটার চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুটি মডেলেরই সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন এবং বাজারে আসার নির্দিষ্ট সময় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ওমোডা, জেকু, জেটৌর এবং এক্সিড-এর মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে গাড়ির বাজারে পরিচিত চেরি এবার প্রিমিয়াম ও প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক দুই চাকার গাড়ির বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার বাণিজ্যিক গাড়ি বিভাগ চিনের সরকারের কাছ থেকে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করার অনুমোদন পেয়েছে। চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রক নথিতে ইতিমধ্যেই একটি ইলেকট্রিক মোপেডের নিবন্ধনের তথ্য সামনে এসেছে। সংস্থার নতুন এই দুই চাকার বাইকগুলো সিননক্স ব্র্যান্ডের অধীনে বাজারে আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে চীনের বাজারকেই লক্ষ্য করেই এই মডেলগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

চেরির নতুন গ্রো সিথ্রি মোটরসাইকেলটির বিশেষত্ব হল এর রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড ইলেকট্রিক ভেহিকল বা ইরেভ প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় মোটরসাইকেলটি মূলত বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে। পাশাপাশি, এতে একটি ছোট পেট্রোলচালিত জেনারেটর থাকে, যা চলার সময় ব্যাটারি চার্জ করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হল, শুধু ব্যাটারির চার্জের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘ পথ চলার সুবিধা দেওয়া। ফলে চার্জিংয়ের পরিকাঠামো সীমিত এমন এলাকায়ও ব্যবহারকারীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। গ্রো সিথ্রিতে ভেহিকেল-টু-লোড প্রযুক্তিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বাইকের ব্যাটারির শক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত বাইরের বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব হতে পারে। ফলে আলাদা জেনারেটরের প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।

গ্রো সিথ্রি-র ফিচার তালিকায় রয়েছে ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল এবং কানেক্টিভিটি সুবিধা। এর সাহায্যে ফোন কল ও মিউজিকের মতো ফিচার ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ওভার-দ্য-এয়ার সফটওয়্যার আপডেটের সুবিধা। অর্থাৎ, সামঞ্জস্যপূর্ণ সফটওয়্যার আপডেট সরাসরি গাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, যার জন্য প্রতিবার সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ক্রুজার-ধাঁচের ডিজাইন দীর্ঘ যাত্রার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থার উপস্থাপনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে ইঞ্জিনের ক্ষমতা, ব্যাটারির আকার, সর্বোচ্চ গতি এবং বাস্তব রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

গ্রো সিথ্রি-র পাশাপাশি চেরি একটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারও প্রদর্শন করেছে। সংস্থার দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্কুটারটি একবার চার্জে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ কিলোমিটার চলতে পারে। এই মডেলটির আরেকটি সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য হল, গাড়িতে ব্যবহৃত চার্জারের সাহায্যে ব্যাটারি চার্জ করার সুবিধা। তবে এটি এসি না ডিসি চার্জিং সমর্থন করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যাটারির ক্ষমতা, মোটরের শক্তি, চার্জ হতে কত সময় লাগবে এবং অন্যান্য ফিচার সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই তথ্যগুলো সামনে এলে বোঝা যাবে, স্কুটারটি মূলত শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য, নাকি দীর্ঘ পথ ও অ্যাডভেঞ্চার রাইডের জন্য বেশি উপযোগী হবে।

প্রিমিয়াম মোটরসাইকেল ও অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারের পাশাপাশি চেরির একটি কম দামের ইলেকট্রিক মোপেডের তথ্যও চীনের নথিতে উঠে এসেছে। তবে এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংস্থা এখনও কিছু জানায়নি। নথিতে দেখা মোপেডটির ডিজাইনের সঙ্গে ইয়ামাহা-র ভিনো স্কুটার সিরিজের মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই ভিনোর নকশার অনুকরণে তৈরি কম দামের বৈদ্যুতিক মোপেড বিক্রি হয়। এই ধরনের মডেলে খরচ কম রাখতে ছোট ব্যাটারি, হাব মোটর এবং কখনও কখনও লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। তবে চেরির নতুন মোপেডেও একই প্রযুক্তি থাকবে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। এটি সংস্থার উৎপাদন অনুমোদন সংক্রান্ত প্রাথমিক পদক্ষেপ, নাকি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পরিকল্পনার অংশ, তা স্পষ্ট নয়।

এই মুহূর্তে চেরির নতুন ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বা অ্যাডভেঞ্চার স্কুটার ভারতে লঞ্চ করার কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই। সংস্থার প্রথম লক্ষ্য চীনের প্রযুক্তির্ভর ও প্রিমিয়াম বৈদ্যুতিক দুই চাকার গাড়ির বাজার। গ্রো সিথ্রি-র ইরেভ প্রযুক্তি এবং নতুন অ্যাডভেঞ্চার স্কুটারের সম্ভাব্য দুইশ কিলোমিটার রেঞ্জ ভবিষ্যতে এই বিভাগে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে দাম, উৎপাদন, লঞ্চের সময় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।