আশিক রেজার দুই নতুন বই নিয়ে পাঠোৎসব ও আড্ডা
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আশিক রেজার কবিতা কেবল শিল্পের প্রয়োজনে নয়, জাতির স্বর বুঝতে, বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতার ভিত্তি ও আগামী দিনের পথরেখা জানতে তার কবিতা আরও বেশি করে পড়া প্রয়োজন। কবি ও গবেষক আশিক রেজার নতুন দুটি বই ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ ও ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’-এর পাঠোৎসবে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আজ বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় তলায় ‘কালের ধ্বনি’র উদ্যোগে এ দুটি গ্রন্থের পাঠোৎসব ও আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বপ্নটাকে দেখতে হবে। স্বপ্ন না দেখার কারণেই স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যায়। বারবার আমরা অভ্যুত্থান করব, বারবার একটা দল যাবে আর আমাদের স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যাবে। রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন যদি দেখতে না পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি বদলের ব্যবস্থা না করতে পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা রূপান্তরের স্বপ্ন যদি না দেখতে পারি, তবে আবার রক্ত দেব, আবার ব্যর্থ হব। রূপান্তরের স্বপ্নটা স্পষ্ট করে দেখতে হবে।
প্রধান আলোচক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ৩ কোটি বাঙালি ৩০ কোটি হয়ে ১৬০ দেশে ছড়িয়ে পড়া বাঙালি এবং মোবাইল, কম্পিউটার, এআই, ক্ষমতা ও দৈনন্দিন জীবনের অলিগলিতে জাতিসত্তার প্রশ্ন, বাংলাভাষা ও ভাষা আন্দোলনের বাস্তবতা নিয়ে ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বইটিকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, এ বই আমাদের সবার জন্য পাঠ করা খুবই জরুরি। আমরা যদি চব্বিশকে বুঝতে চাই, চব্বিশের ব্যর্থতা কোথায়, সেটা যদি বুঝতে চাই, চব্বিশের সার্থকতা কোথায়, সেটাও যদি বুঝতে চাই, তাহলে আমাদের এ বইয়ের কাছে ফিরে আসতে হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মো. রবিউল আলম আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই বিপ্লবের ন্যারেটিভ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’কে অসাধারণ বলে মন্তব্য করেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফ খান বলেন, এ বই প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে।
আশিক রেজার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ঘাসফুল। ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বইটির প্রকাশক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই)।
