পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২১ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এই সফরে প্রশমিত হবে কি না—সে বিষয়ে ভবিষ্যতেই উত্তর পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত হবে না। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তার একধরনের যথেষ্ট পজিটিভ ইমেজ আছে। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আপনারা তা জানেন। দেশের মানুষের মধ্যে দলমত নির্বিশেষে তার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা সম্মান আছে। এটা দক্ষিণ এশিয়ার সবাই রিকগনাইজ করে। তার (খালেদা জিয়া) মৃত্যুতে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সবাই অংশগ্রহণ করবেন এটাই স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন। তারপর চলে গেছেন। এটা একটা ভালো জেশ্চার (ইতিবাচক আচরণ), এ পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভালো।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান-টু-ওয়ান কথাবার্তা বলিনি। সেরকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন, পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তার সঙ্গেও তিনি (জয়শঙ্কর) হাত মিলিয়েছেন। এটা কার্টেসি, যেটা সবাই মেনে চলে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, তার (জয়শঙ্কর) সঙ্গে আমার যেটুকু কথাবার্তা হয়েছে সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যবোধ, অন্য সবার সামনে, ফলে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।
প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
