২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। মূল এডিপির তুলনায় এতে প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ফলে বর্তমান বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এডিপির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন থাকবে ৭২ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি।

তিনি বলেন, দাতাগোষ্ঠীর সাহায্যের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সংশোধিত এডিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমেছে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের প্রকল্পসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্দা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে চাঙ্গা হবে। প্রকল্প পরিচালক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। নতুনদের চলমান করতেও সময় বেশি লেগেছে। নতুন কারণ, সরকারি ক্রয় নীতি কার্যকর করা হয়েছে। যা শতভাগ অনলাইন হবে। অভিজ্ঞতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় সময় বেশি লাগছে। নতুন ক্রয়নীতির ফলে টেন্ডার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে।

সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা বেশি। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৮৬টি সম্পন্ন করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন ৮৫৬টি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৭টি বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্ত প্রকল্প, ৩৫টি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে এবং ৮১টি পিপিপি প্রকল্প।

সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন—এই ৫ খাতের জন্য মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সংশোধিত এডিপির ৬০.৫৪ শতাংশ। মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ।