সারাদেশে ৫৬ জন নির্বাচনি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে ইইউ

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালেই পর্যবেক্ষকরা রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রওনা দিয়ে তাদের দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।

এদিন সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে এ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মিশনের উপ-প্রধান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রদান করে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা দুজনের এক-একটি দল হয়ে কাজ করবেন। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইন্তা লাসে বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এ মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মিশনটিকে আরও জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম; যেমন— ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। 

এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল যুক্ত হয়ে এ মিশনের কার্যক্ষমতা আরও বাড়াবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা হবে। উভয় নথিই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি কঠোর আচরণবিধির অধীনে কাজ করে। এটি পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয় এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী।