চাঁদার টাকা নিয়ে বিরোধে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত: ডিবি

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দিলীপ ওরফে বিনাসের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিবি প্রধান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় তার কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কাঁচাবাজার এলাকা। সেখানকার দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দলীয় লোকজনের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন নামে আট থেকে নয়টি গ্রুপ চাঁদা তোলে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে দিলীপ ওরফে বিনাস নামের একজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তার নাম তদন্তে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেক আসামির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

তাদের বক্তব্যে ‘দাদা আছে, দাদা দেখবে’—এই কথাও উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে হলেও তারাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে পালাচ্ছে এবং তারা দুজনই গুলি করেছে।

বিনাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী এবং বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা করে।

তিনি আরও বলেন, সামনে নির্বাচন। এই সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য অনেকে তৎপর রয়েছে। চলতি মাসে সর্বাধিক সংখ্যক প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ নরসিংদী থেকে শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।