নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বড় দল পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইইউ

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ঢাকায় প্রাপ্ত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারি-জেনারেল অনারেবল শার্লি বচওয়ে চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে এক ঘোষণায় জানান, সাবেক ঘানা প্রেসিডেন্ট নানাআকুফো-অ্যাডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, এ পর্যবেক্ষক দলে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন প্রশাসনে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দলটিকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের একটি টিম, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

২১ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করাই পর্যবেক্ষক দলের মূল দায়িত্ব।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যে মানদণ্ড ও জাতীয় আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেসবের আলোকে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যবেক্ষক দল প্রতিবেদন দেবে।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহদ রাজি। এছাড়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধিরাও দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এদিকে কমনওয়েলথের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিশ্চিত করেছে, ২৭টি ইইউ সদস্যরাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।

ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য থাকবেন। তারা হলেন অস্ট্রিয়ার লুকাস ম্যান্ডল, রোমানিয়ার লোরান্ত ভিনজে, চেক প্রজাতন্ত্রের তোমাশ জদেখভস্কি, স্পেনের লেইরে পাখিন, রোমানিয়ার শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুর্দজা, আয়ারল্যান্ডের মাইকেল ম্যাকনামারা এবং নেদারল্যান্ডসের ক্যাটারিনা ভিয়েরা। তারা ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন।

ইইউ ইওএম তাদের কার্যক্রম শুরু করে গত ২৯ ডিসেম্বর, যখন ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি মূল দল ঢাকায় আসে। এই দলে লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার আইনি, রাজনৈতিক, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত সব দিক মূল্যায়ন করছে।

এছাড়া ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঢাকায় মূল দলে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক।

ভোটের দিন কূটনৈতিক মিশন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের মাধ্যমেও ইইউ মিশন আরও শক্তিশালী হবে। তারা ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল সংকলন পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইইউ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন।

সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সফর সমন্বয়ে সহায়তাকারী জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে পর্যবেক্ষক আসার আগ্রহ প্রতিদিনই বাড়ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই আগ্রহ অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারব বলে তারা বিশ্বাস করছে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে গণভোট।