সরকারে যেই আসুক, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার চান প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

আগামীতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীন–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে তিনি স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং চীন সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

চীনের ‘শীর্ষস্থানীয়’ শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং বায়োমেডিক্যাল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান উপদেষ্টা তাদের বলেন, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি এই দায়িত্ব ছেড়ে দেব এবং নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে কাজ চলমান থাকতে হবে। 

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, সে কথা বৈঠকে স্মরণ করেন নোবেলজয়ী ইউনূস।

তিনি বলেন, আমি চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে দেখেছি কীভাবে মানুষের জীবন বদলে যাচ্ছে। পরে চীনা সরকারও এই নীতিমালা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

গত মার্চ মাসে চীন সফরের কথা স্মরণ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সে সময় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

তিনি আমাকে বলেছেন যে তিনি আমার বই পড়েছেন এবং তার নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন। এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত ছিল।

চীন সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞানী শিন-ইউয়ান ফু প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির ‘প্রশংসা’ করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কাজ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিনিয়র উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওয়ং এবং ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকের (সিঙ্গাপুর) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউকিং ইয়াও বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, ওয়ালভ্যাক্স ইতোমধ্যে অন্তত ২২টি দেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি করেছে।