ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
দেশজুড়ে মোতায়েন থাকবে ৩৭ হাজার বিজিবি, ব্যবহার করবে না মারণাস্ত্র
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি কোনো ধরনের মরণাস্ত্র (লেথাল ওয়েপন) ব্যবহার করবে না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা জানানো হয়।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিজিবি দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা সেক্টরের অধীনে ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি), এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৯টি জেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনের ৫১টি আসনে মোট ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা বিজিবি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তথা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বিজিবি প্রস্তুত। ভোটাররা যেন ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন- এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যদের এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা যে কোনো পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও নির্বাচনকালীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে যে কোনো মুহূর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিজিবি সক্ষম।
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে বিজিবি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি, আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করবে, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে কোনো মহল নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের মহাপরিচালকের নির্দেশ, আমরা নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবো না।
কোনো হটলাইন নম্বর ব্যবহার করা হবে কি না জানতে চাইলে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বলেন, আমাদের যেসব বেস ক্যাম্প রয়েছে সেগুলোর মোবাইল নম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষা অ্যাপ রয়েছে, সেখানেও অ্যাপসের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
