ইইউ’র সঙ্গে দ্রুত এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বিঘ্ন রাখা এবং দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির  দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০টির বেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে ভবিষ্যতেও—বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ—বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের রপ্তানি পণ্যের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা অবশ্যই ইইউর সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের আশা করছি, যাতে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়।”

ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে, কারণ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর দেশটি তার সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে।

তিনি বলেন, একটি এফটিএ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

নুরিয়া লোপেজ উল্লেখ করেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের পথে রয়েছে, আর ভিয়েতনাম এরই মধ্যে এমন একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার ফলে এই দুই মধ্যম আয়ের দেশ ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে কাজ করছি। আমি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনতে ইইউ দৃঢ়ভাবে আগ্রহী। এ ছাড়া ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, “আমরা রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আগাম ইতিবাচক সংকেত চাই—যাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হয় এবং সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পায়।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের সুযোগ নিতে পারে, যেখানে দক্ষ শ্রমশক্তি তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, “আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।”

তিনি বলেন, “ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।” তিনি যোগ করেন, নির্বাচন প্রচারের সামগ্রিক চিত্র “খুবই ইতিবাচক।”

বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।