শুধু ভোটের দিন নয়, নির্বাচন পরবর্তী কয়েকদিনও সতর্ক থাকতে হবে : নৌবাহিনী প্রধান

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, শুধু নির্বাচনের দিনই নয়, নির্বাচন পরবর্তী দুই-তিন দিনও সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচন শেষে অনেক সময় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। যারা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেন না, তারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে হেলিকপ্টারযোগে বরগুনায় আসেন নৌবাহিনী প্রধান।

মতবিনিময় সভায় অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক এখন অনেক বেশি নিবিড় ও সমন্বিত। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

নৌ প্রধান বলেন, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আমাদের দেশ এবং জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গত দেড় বছর ধরে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অসামরিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মোতায়েন রয়েছি। তারই চূড়ান্ত পর্বে এখন আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা এসবের মূল দায়িত্ব পালন করেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবং সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একত্রিতভাবে তাদের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছি।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য এ বছরের নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের মোতায়েনের জন্য সাতদিনের একটি সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। দেশের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আমরা বিগত ২০ জানুয়ারি থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি বাহিনী থেকেই সংশ্লিষ্ট সদস্যরা মোতায়েন হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আমাদের বেশকিছু জাহাজ এবং জলযান মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা প্রস্তুত রয়েছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, এ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রথমবারের মতো বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করছি। ড্রোন ব্যবহার করছি। যাতে করে সার্বিকভাবে আমরা প্রতিটি অঞ্চলে আমাদের মোতায়েনকৃত সদস্যদের প্রতিনিয়ত যে কর্মকাণ্ড এবং কোথাও কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে যাতে সেটার খবর পাই, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া একটা চ্যালেঞ্জ অতীতের থেকে এখন কিছুটা বেশি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় অপপ্রচার এবং তথ্যের অপব্যবহারও করা হয়। এই বিষয়টিতে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের যে খবর আপনারা জনগণের কাছে তুলে ধরবেন, সেই ক্ষেত্রে আপনাদের যাতে দায়িত্বশীলতা থাকে। যাতে করে কোনো ভুল তথ্য প্রচার এবং যে কোনো প্রচার প্রচারণায় জনগণ বিভ্রান্ত না হয়। এ জন্য আপনাদের দায়িত্ব অতীতের যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। যে কোনো তথ্য প্রচারের আগে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওই তথ্যের সত্যতা এবং সঠিকতা যাচাই করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।