আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ লাখ সদস্য মাঠে
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর তিন দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিসহ বাহিনীগুলোর সদস্যরা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন- সব ক্ষেত্রেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করবে এসব বাহিনী। এ ছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল রোববার থেকে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের নির্বাচনি দায়িত্বে থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন থাকার কথা। এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকবেন।
সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গত শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, সেনাবাহিনী আগেই নামানো হয়েছে, রোববার (গতকাল) থেকে আরও সেনা সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট সাত দিন তারা মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজস্ব সিকিউরিটি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।
সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘ব্যালট বাক্স ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করছেন। সবাই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। আমরা প্রস্তুত, প্রচার শেষে ভোটাররাও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কমিশন মনে করে, ভোটের পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূলে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এর আগে গত ৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রে জানায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে নামানো হয়েছে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ২৫টি জেলার দুর্গম এলাকায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ভোটের দুই দিন আগে থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তারা কেন্দ্রে অবস্থান করবেন।
মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট : জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে গতকাল রোববার থেকে সারাদেশে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ ও আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ তথ্য জানায়। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
ইসি জানায়, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে রয়েছে। তবে আজকে থেকে তাদের তৎপরতা আরও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।
মাঠের পরিস্থিতি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা নিশ্চিত করেছেন যে দেশের পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক সদস্য সংখ্যাগুলো হচ্ছে— আনসার ও ভিডিপি প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য। পুলিশ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্য। সশস্ত্র বাহিনী ১ লাখ সদস্য। বিজিবি ৩৫ হাজার সদস্য। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।
সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রভেদে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনে ভিন্নতা আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন। মেট্রোপলিটন এলাকা সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন। দুর্গম এলাকা ২৫টি জেলার দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ১৬-১৮ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শুরুর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। ২৯৯টি আসনে এবার মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। মোট ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভোট দেখতে আসছেন ৫০০ বিদেশি প্রতিনিধি, ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রিফিং করবে ইসি : আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসি সূত্র জানায়, ১১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে কমিশন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ প্রসঙ্গে জানান, এবারের নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জনের মতো প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন। তাদের অবস্থান ও তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। বিদেশি প্রতিনিধিদের নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছে ইসির জনসংযোগ বিভাগ।
নির্বাচন স্থগিতের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ইসির : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান ইসি।
গতকাল রোববার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) নির্ধারিত তারিখেই শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এমতাবস্থায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত সংক্রান্ত কোনো ধরণের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিউআর স্ক্যান-খাম জমার নির্দেশ : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কিউআর কোড স্ক্যান এবং ব্যালট পেপার সংবলিত খাম পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। রোববার নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনকারী যে সব ভোটার এখনও তাদের খামের ওপর মুদ্রিত কিউআর কোড স্ক্যান করেননি, তাদের আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের (বাংলাদেশ সময়) মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
কমিশন স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিউআর কোড স্ক্যান না করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। স্বচ্ছতা ও নির্ভুল ভোটগণনা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী বাংলাদেশে বসবাসরত ভোটারদের জন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপার প্রাপ্তির পরপরই ভোটারকে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট সংবলিত হলুদ খামটি নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। খাম জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি।
ইসি জানিয়েছে, সময়মতো রিটার্নিং অফিসারের কাছে ব্যালট পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই এই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ডাকঘরে খাম জমা দেওয়া প্রয়োজন। বিলম্বিত জমার কারণে ব্যালট পৌঁছাতে দেরি হলে তা গণনা প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সব ভোটারকে জাতীয় দায়িত্ব পালনে এই সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে ৩ লক্ষাধিক প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসে অবস্থানরত ৩ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কার্যক্রমটি চলছে।
গতকাল রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত ইসির তথ্যে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ৩ লাখ ১৮ হাজার ১২৫ প্রবাসীর ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছেছে।
প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক। নির্ধারিত দেশগুলোতে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেন। ৫ লাখ ৩ হাজার ৪৪১ জন ভোটার ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নিজ নিজ দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৫ জন ভোটার ব্যালট জমা দেন। দেশে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮২৮টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। ৩ লাখ ১৮ হাজার ১২৫টি ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে যারা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের কার্যক্রমও চলছে। বিডি পোস্ট থেকে ভোটারদের কাছে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪২ জন ভোটার সফলভাবে ব্যালট হাতে পেয়েছেন। ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৮ জন ভোটার ভোট দিয়ে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোটাররা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮২৬টি ব্যালট ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৭টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছেছে।
রাঙ্গামাটির ২০ দুর্গম ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু : রাঙ্গামাটির দুর্গম ২০টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং সড়ক-নৌপথে যোগাযোগের অপ্রতুলতার কারণে নির্বাচন কমিশন এসব কেন্দ্রকে ‘হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক ধাপে তা সম্পন্ন করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি জেলায় মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২০টি কেন্দ্র অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় স্বাভাবিক পথে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক কেন্দ্রে পায়ে হেঁটেও পৌঁছানো সম্ভব নয়, আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে যেতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত। ফলে নির্বাচনি সরঞ্জাম ও কর্মীদের সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থায় পাঠানো বাস্তবসম্মত নয়।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে পৃথক পৃথকভাবে হেলিকপ্টারে করে ২০টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়।
দুর্গম এসব কেন্দ্রের মধ্যে বাঘাইছড়িতে ছয়টি, বরকলে দু’টি, জুরাছড়িতে সাতটি ও বিলাইছড়িতে পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় এসব কেন্দ্রকে বিশেষভাবে হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাঙ্গামাটির ২০টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো শুরু হয়েছে। কয়েক ধাপে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
তিনি আরো জানান, দুর্গম এলাকার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
