রয়টার্সের প্রতিবেদন
‘বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে’
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একে বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ব্যাপকভাবে জয়লাভ করবে বলে আশা করছে, যদিও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোট একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে হওয়া নির্বাচনে বাংলাদেশে বিরোধীদলের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। বিরোধী দলগুলো প্রায়ই নির্বাচনে অংশ নিত না বা সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। তবে আগামী বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে সরকার পতনের পর দেশের যুবকরা মনে করছেন, এই ভোট হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ২০০৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি যদিও ইসলামী দল জামাত-ই-ইসলামির নেতৃত্বাধীন জোটটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেনারেশন জেড দ্বারা পরিচালিত নতুন দল এনসিপি তাদের গণআন্দোলনের ভিত্তিকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।
বিএনপির প্রধান তারিক রহমান রয়টার্স-কে বলেন, তার দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে নির্বাচন করছে এবং তারা সরকার গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নির্ধারক ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর ছয় মাসের অস্থিতিশীলতায় শিল্প খাত বিশেষ করে গার্মেন্টস খাত অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোটের ফলাফল শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করবে না বরং চীন ও ভারতের দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকাও প্রভাবিত হবে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘মত জরিপে দেখা যাচ্ছে বিএনপির এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা, কিন্তু ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনও অনির্ধারিত।’
বাংলাদেশের জেনারেশন জেড মোট ভোটারের প্রায় এক চতুর্থাংশ। তাই জেনারেশন জেডের ভোট এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামাতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকযুক্ত পোস্টার ও ব্যানার দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামাতের সম্ভাব্য সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থান পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকতে পারে কারণ পাকিস্তানও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সংযুক্ত।
এ নির্বাচনে অত্যন্ত দারিদ্র্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রিজার্ভ এবং স্থবির বিনিয়োগ নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সবচেয়ে বড় সমস্যা। ঢাকা ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ও জনমত জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের প্রধান চাহিদা দুর্নীতি দমন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি।
সূত্র: রয়টার্স
