যারা নির্বাচন ব্যাহত করতে চাইবে, তাদেরই ঝুঁকিতে পড়তে হবে: র‍্যাব ডিজি

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

যারা নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করবে বা ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ চালাবে, তাদেরই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্বাচনে ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তবে আমি মনে করি, এবার নির্বাচনে ঝুঁকি তাদের জন্য, যারা নির্বাচন ব্যহত করতে চায়। যারা জাল ভোট দিতে যাবে, নির্বাচনের ব্যালট বক্স ছিনতাই করতে যাবে, ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ করবে এদেরকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।’

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ বিঘ্নিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিতে পারে।

আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয় এমন কাজ যেন করতে না পারে সেজন্য আমরা সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখি। যাতে করে যারা এধরনের অপরাধ করে তারা কিন্তু ধরা পড়ে যাচ্ছে। এখন থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকবো। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সবাই মাঠে কাজ করছে।

তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই র‍্যাব নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়েও অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক জানান, নির্বাচনকে তিনটি ধাপে ভাগ করে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে—নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়। 

নির্বাচনপূর্ব সময় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন র‍্যাব স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় র‍্যাবের টিম মোতায়েন রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্থির (স্ট্যাটিক) ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি রয়েছে, পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। 

ড্রোন, র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।