আলী রীয়াজ
দেশের নাগরিকদের বৃহদাংশ আর পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায় না
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

বাংলাদেশের নাগরিকরা অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং দ্বিধাহীনভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব সমূহের অনুকূলে তাদের রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই রায় থেকে এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশের নাগরিকদের বৃহদাংশ আর পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা রাখতে চান না। তারা চান পরিবর্তন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোটে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার; যা মোট ভোটের প্রায় ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন; যা কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৬৮.০৬ শতাংশ। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার; যা কাস্ট হওয়া ভোটের প্রায় ৩১ শতাংশ। লক্ষণীয় যে ভোটারদের ৬০ শতাংশেরও বেশি গণভোটে অংশ নিয়েছেন; তা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও এক শতাংশ বেশি।
প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, প্রধান উপদেষ্টা গণভোটের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে হবে না। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি, পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকেই। তাই দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়াই হলো গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি। এই লক্ষ্যেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন। জনগণ তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সংস্কারের পক্ষে জনরায় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে কেবল সংখ্যার বিবেচনায় দেখলেই হবে না। জনগণের এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা অকুত ভয়ে লড়াই করেছেন, তারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার স্বীকৃতি।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
