নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে: ইইউ মিশন

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বলে অভিহিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)। সংস্থাটি বলেছে, এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ও মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। এ সময় প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান টমাস জ্যাচোভস্কি।

ইজাবস বলেন, ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক সুশাসন এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক লড়াইটি ছিল সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, যেখানে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ভালোভাবে রক্ষা করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, যা অংশীজনদের আস্থা অর্জন করেছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট-চেকার এবং তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইইউ পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের দিনটি ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ। সেই সাথে কর্তব্যপরায়ণ নির্বাচনী কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্টদের উপস্থিতি স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ফলাফল গণনার নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রচার জনমনে আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। 

তবে মিশন জানায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন অংশগ্রহণ সর্বত্র নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি নারীদের সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় সহিংসতা ও অপতথ্যজনিত আতঙ্কও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি আরও জোরদার করার আহ্বানও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, পুরানো সেই ধ্যান-ধারণা বা চর্চাগুলো বাদ দেওয়ার এখনই সময়, যেগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অগ্রগতির সঙ্গে যায় না। এখন সময় এসেছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার।

টমাস জ্যাচোভস্কি বলেন, দেশ এখন এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে আহ্বান জানাই, যেন তারা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে।

ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পর্যবেক্ষক দলটি ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মোট ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

মিশনটি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করবে এবং আগামী মাসগুলোতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আরও উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ বা সুপারিশ থাকবে।