এমপি-মন্ত্রীদের শপথ আজ
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এমপি ও মন্ত্রীরা শপথ নেবেন আজ (মঙ্গলবার)। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হয়; কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। একই দিন সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নতুন সরকারের শপথ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করান নতুন সরকারপ্রধান হতে যাওয়া বিজয়ী দলের নেতা ও মন্ত্রীদের। এতদিন তা বঙ্গভবনেই হয়ে আসছে। এবার স্থান বদল করার মাধ্যমে সেই রীতি ভাঙছে।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিএনপিকে জানাতে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় তিনি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া সংসদ সদস্যদের শপথ সংসদের শপথকক্ষে আর মন্ত্রীদের শপথ বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু নতুন পরামর্শ এসেছে।
দেশি- বিদেশি ১২০০ অতিথি থাকছেন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি- বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন। এই হিসাব ধরেই মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকারের সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। আসছেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পায়। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। শরিক দলগুলোসহ বিএনপি জোটের আসন ২১২। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। প্রায় দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করছে বিএনপি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি- বিদেশি অতিথি অংশ নিতে পারেন। সে অনুযায়ী আমন্ত্রণ কার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতিও সেভাবে নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি অংশ নেবেন। ভুটানের পক্ষে অংশ নেবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের পক্ষে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা অংশ নিতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্য দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
দিল্লি থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শনিবার সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী একই সময়ে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণের কথা নরেন্দ্র মোদির। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণত প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানরা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাংবাদিক, কূটনীতিক এবং অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
মন্ত্রিসভার শপথের আগে গুলশান কার্যালয়ে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের ভিড় : রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে গতকাল ভিড় করেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের নেতা-কর্মীরা। সোমবার সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। বেলা পৌনে একটার দিকে কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীরা। তাদের অনেকের হাতে ফুল। দলের প্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। নওগাঁ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তার সঙ্গে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও ছিলেন। ইকরামুল বারী বলেন, ‘দেশে ১৭ বছর পর গণতন্ত্র ফিরেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ছিলেন সবচেয়ে নির্যাতিত। কেউ গুম হয়েছেন, কেউ খুন হয়েছেন। কিন্তু গতকাল (সোমবার) দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বড় জয় পেয়েছে। তাই নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।’ বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ঠিক করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছি।’ ফেনী-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার আসন হওয়ায় আমার আসনে বিগত সময়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’ নির্বাচনে বড় জয়ের পর এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন।
বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ- আইন উপদেষ্টা : গত রোববার সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল দশটায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। আমি ধারণা করছি খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ দেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবেন। এছাড়া বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। আমার জানামতে এটা রাষ্ট্রপতি করবেন। কারা আমন্ত্রিত হবেন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার জানামতে এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সেখানের মন্ত্রীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
শপথ ঘিরে সংসদ এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ : নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পরিহার করে যানবাহন চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত রোববার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার শপথ ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল লোকসমাগম হবে। সেজন্য সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ করা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠান চলার সময়ে খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত করা হবে। এই সময়ে ডাইভারশনের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আসা ফার্মগেট-সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে যাবে। ধানমন্ডি ২৭ থেকে আসা যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে আসা-যাওয়া করবে। আসাদগেট থেকে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে যানবাহনগুলো আসাদগেট থেকে বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং থেকে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে যাবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-ইন্দিরা রোড থেকে আসা যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ থেকে বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে যাবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে। সে কারণে মিরপুর রোড হতে দক্ষিণমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে আসা-যাওয়া করবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালে যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প সচল থাকবে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।
শপথ অনুষ্ঠানে হেফাজত আমিরকে আমন্ত্রণ জানালেন তারেক রহমান : মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার বাবুনগরীকে আমন্ত্রণ জানাতে ফোন দেন তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। পরদিন ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট জারি করা হয়নি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাই সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সিইসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, আমরা পেয়েছি। এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। প্রথমে বিএনপি জোটের, এরপর জামায়াত জোটের এবং পরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শপথ পড়াবেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস- প্রতিটি দল একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, এমপিদের শপথ পড়ানোর জন্য আমরা সিইসিকে চিঠি দিয়েছি। সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।’
