শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নানা আয়োজন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী অর্ধনমিত রাখা হবে।
পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়ম সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সব বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার এবং সব প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার চালানো হবে।
জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করে পালন করা হবে এবং সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করবে।
ওই দিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি, একুশে উদযাপন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নির্ধারিত ধারাক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার চত্বর ও আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনসমাবেশ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া সব সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বাংলাদেশ বেতার ও কমিউনিটি রেডিওসমূহ একুশের অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান বাংলাসহ দেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে। ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি রেডিও ও টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীতে ট্রাকের মাধ্যমে রাজপথে ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান এবং নৌযানের সাহায্যে ঢাকা শহর সংলগ্ন নৌপথে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছড়া ও কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলা একাডেমি একুশে বইমেলার আয়োজন করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এ বইমেলায় অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মেলা উপলক্ষে বিশেষ শিশু সংখ্যা প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও অধীনস্থ শাখা জাদুঘর, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সব প্রত্নস্থান ও জাদুঘর শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ওই দিন বিনা টিকিটে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে।
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভাষা আন্দোলনের ওপর বিভিন্ন প্রামাণ্য নিদর্শন প্রদর্শন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অঙ্কন ও প্রদর্শন, শিশু-কিশোরদের সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা এবং সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করবে।
